Tuesday, February 21, 2023

নারায়ণগঞ্জে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকে আটকের দেড় ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্তি




 আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠান শেষে শহীদ মিনার থেকে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা তরিকুল সুজনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে আবার দেড় ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তরিকুল সুজন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক। এর আগে গতকাল বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক জোট। সেখানে অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল ‘একুশের উচ্চারণ দূর হ দুঃশাসন’। পরে লেখাটির বিষয়ে পুলিশ আপত্তি জানিয়ে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা ব্যানারের লেখাটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক জোটের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন


প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর রাত ১০টার দিকে তরিকুল সুজনসহ আরও অনেকে শহীদ মিনারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় পুলিশ। তরিকুল সুজন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাঁকে গালমন্দ করে। একপর্যায়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে তরিকুলকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে অনলাইন পত্রিকা ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ’–এর সাংবাদিক সোহেল রানার মুঠোফোন কেড়ে নেয় পুলিশ।

তরিকুল প্রথম আলোকে বলেন, অনুষ্ঠান শেষে তিনি ও স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা শহীদ মিনারের উত্তর পাশে দাঁড়িয়ে নাশতা করছিলেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসে তাঁদের গালিগালাজ করে শহীদ মিনার থেকে দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই পুলিশ সদস্যদের হাতে বাঁশের লাঠি ছিল এবং তাঁরা মারমুখী ছিলেন। তাঁদের এ আচরণের প্রতিবাদ জানালে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বাঁশ দিয়ে মারতে উদ্যত হন। তবে শহীদ মিনারে অবস্থানের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। আর সেখানে তাঁরা কোনো অপরাধমূলক কাজও করছিলেন না। এরপরও পুলিশের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানালে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে দেড়ঘণ্টা থানায় আটক রেখে মুচলেকা নিয়ে দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেয়।


সাংবাদিক সোহেল বলেন, তরিকুল সুজনকে পুলিশের গাড়িতে তোলার দৃশ্যের ছবি তুলতে গেলে পুলিশ তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেয়। কিছুক্ষণ পরই পুলিশ মুঠোফোনটি ফেরত দিয়ে দ্রুত তাঁকে শহীদ মিনার ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় পুলিশ তাঁকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে তরিকুল সুজনকে আটক করা হয়নি। তাঁকে পুলিশ ভ্যানে থানায় আসা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের কথা শুনে দুই পক্ষই ‘সর‍ি (দুঃখিত)’ বলায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তরিকুল সুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।




No comments:

Post a Comment

নারায়ণগঞ্জে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকে আটকের দেড় ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্তি

  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠান শেষে শহীদ মিনার থেকে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা তরিকুল সুজনকে আটক করেছ...